যশ বলেন: নুসরাতকে একটুও পছন্দ করতাম না - জাহান বাংলা নিউজ

যশ বলেন: নুসরাতকে একটুও পছন্দ করতাম না - জাহান বাংলা নিউজ

যশ বলেন: নুসরাতকে একটুও পছন্দ করতাম না

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত অভিনেত্রী নুসরাত ও অভিনেতা যশ দাস গুপ্ত এর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা হয়েছে।

বিশেষ করে যখন থেকে নুসরাতের মা হওয়ার খবর ও তার স্বামী হিসেবে পরিচিত নিখিল জৈনের এবং সন্তানের অস্বীকার করার, আলোচনা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরেন।

যশ বলেন: নুসরাতকে একটুও পছন্দ করতাম না - জাহান বাংলা নিউজ

নুসারাতের সন্তান পুত্র ঈশানের পৃথিবীতে আগমনের পরও নুসরাত-যশ কেউ সরাসরি কথা বলেননি। ঠিক এর কয়েকদিন পর নুসরাত-যশ জানান তাদের বিয়ের কথা। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম "হিন্দুস্থান টাইমসের" এক প্রতিবেদনে নুসরাত-যশ এর কাছে আসার গল্প উঠে এসেছে।

 ‘এসওএস কলকাতা’ সব হিসেব-নিকেশ উলটে দেয় নুসরাত ও যশের। যশ বলেন, আমি নুসরাতকে সহকর্মী হিসেবে একদম অপছন্দ করতাম, আমার মনে হত নুসরাত ভীষণ দাম্ভিক। আমার বন্ধুরা পরামর্শ দিয়েছিল নুসরাতের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখবার কথা। তবে সব ইকুয়েশন পালটে গিয়েছে মাস কয়েকের মধ্যেই।

নুসরাতের প্রথম সন্তান ঈশান। তবে যশের আগের স্ত্রীর ঘরে তার ৯ বছরের ছেলে রয়েছে। যদিও সেই সন্তানকে নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি যশ। গত মাসে ‘চিনে বাদাম’ ছবির শ্যুটিংয়ের ফাঁকে ঈশান প্রসঙ্গে যশ বলেন, ঈশান খুব ছোট। সবে ১৫ দিন বয়স। এত তাড়াতাড়ি কিচ্ছু পরিবর্তন আসে না, বিশ্বাস করুন। আমার ছেলে আছে, যার ইতিমধ্যেই ৯ বছর বয়স হয়ে গেছে, এত তাড়াতাড়ি কিচ্ছু চেঞ্জ আসে না। এটা সংবাদমাধ্যমের বাড়াবাড়ি।
অর্নাস ১ম (প্রথম) বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১ (২০২০ সালের) || NU Honours 1st years Exams Routine 2021 PDF - জাহান বাংলা

অর্নাস ১ম (প্রথম) বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১ (২০২০ সালের) || NU Honours 1st years Exams Routine 2021 PDF - জাহান বাংলা

অনার্স ১ম বর্ষ রুটিন ২০২১ || NU Honours 1 st years exams routine 2021

অনার্স ১ম বর্ষ রুটিন ২০২১ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০২০ সালের অনার্স ১ম বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের অনার্স ১ম বর্ষের রুটিনটি প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ ও ২০১৮-২০১৯, ২০১৭ - ২০১৮, ২০১৬ - ২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ২০২০ সালের অনার্স ১ম বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার সময়সূচির বিস্তারিত তথ্য দেখুন এখানে।
অনার্স ১ম বর্ষ রুটিন ২০২১ || NU honours 1st years exams routine 2021

অনার্স ১ম বর্ষ রুটিন ২০২১ || NU honours 1st years exams routine 2021

জাহান বাংলা নিউজ পাঠকদের জন্য এখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের অনার্স ১ম বর্ষ (বিশেষ) পরীক্ষার রুটিন ২০২১ হুবহু দেয়া হলো।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১
সেই সাথে আসল রুটিনটি কোন ঝামেলা ছাড়া ডাউনলোড করতে পারবেন নিচে গিয়ে। খুব সহজে এবং ঝামেলা ছাড়া অরজিনাল অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১ ডাউনলোড করতে পারেন।

অর্নাস ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১(Honours 1st Years Exams Routine 2021)

অর্নাস ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১(Honours 1st Years Exams Routine PDF 2021) 1

অর্নাস ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১(Honours 1st Years Exams Routine 2021)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের রুটিনের ২০২১ বিস্তারিত আপডেট নীচে তুলে ধরা হলো।

Honors 1st Year Result 2021||অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার ২০২১

অনার্স ১ম বর্ষের (বিশেষ) পরীক্ষার বিশেষ নির্দেশনাঃ
কোন কারণ দর্শানাে ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সময়সূচী পরিবর্তন করতে পারবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন। সময়সূচী অনুযায়ী সকল তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেজারী থেকে প্রশ্নপত্রের ট্রাংক উত্তোলন ৰা গ্রহণ করা যাবে না।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট www.nubd.info/honours এবং nuh204@gmail.com তে পাওয়া যাবে।

অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন ২০২১

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে। ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচী যথাসময়ে জানানাে হবে। পরীক্ষার্থীদেরকে স্ব-স্ব কলেজে যােগাযােগ করে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় জেনে নিতে হবে।

নিচে ক্লিক করে দেখুনঃ

Honours 1st Year Routine 2021


অনার্স ১ম বর্ষ পরীক্ষার রুটিন পিডিএফ ২০২১ || NU Honours 1st years exams routine 2021

PDF Download 



ইভ্যালির (Evaly) ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে - জাহান বাংলা

ইভ্যালির (Evaly) ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে - জাহান বাংলা

ইভ্যালির (Evaly) ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে

ইভ্যালির Evaly ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট তারা জানিয়েছে আমাদের সার্ভারসহ, অফিসের খরচ চালানো এবং আমাদের এমপ্লয়িগণের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের সার্ভার বন্ধ হয়ে যায়। এই সম্পর্কে ইভ্যালির Evaly ফেসবুক পেজে বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে।

ইভ্যালির (Evaly) ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে
সম্মানিত গ্রাহক,
ইভ্যালির Evaly বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অংশীদার হয়ে দেশের অনলাইন কেনাকাটাকে সবার হাতের মুঠোয় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি অবিরাম। আমরা এই কাজকে এগিয়ে নিতে চাই। চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে চালিয়ে যেতে। আর এই সুযোগ পেলে সকলের সব ধরনের অর্ডার ডেলিভারি দিতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলাম, আছি, থাকবো। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আমাদের সকল এমপ্লয়িগণ শঙ্কার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। আমাদের সম্মানিত সিইও এবং চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় আমাদের ব্যাংকিং-ও সাময়িকভাবে বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালির Evaly সার্ভারসহ, অফিসের খরচ চালানো এবং আমাদের এমপ্লয়িগণের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের উকিলের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত সিইও’র বক্তব্য হলো- সুযোগ এবং সময় পেলে আমাদের পক্ষে ৪ মাসের মধ্যেই সকল জটিলতা গুছিয়ে উঠা সম্ভব। 

এই পরিস্থিতিতে ইভ্যালির Evaly সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুনরায় দ্রুত সার্ভার চালু করে দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।       

গ্রাহক এবং সেলারদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট। ইভ্যালি দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে আমাদের এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে পেয়েছি সবসময়। আপনাদের এই ভালোবাসায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ। সামনের দিনগুলোতেও আমরা এভাবে আপনাদের পাশে চাই।
  
আপনাদের ভালোবাসার শক্তি আমাদের অদম্য পথচলার প্রেরণা। 
ইভ্যালির পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।


সূত্রঃ ইভ্যালির অফিসিয়ার ফেসবুক পেজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিকা সাঁতার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিকা সাঁতার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিকা সাঁতার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বয়সভিত্তিক বালিকা সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় ডা. আ.আ.ম. মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) স্টেডিয়াম সংলগ্ন সুইমিংপুলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিকা সাঁতার প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়ন সদর উপজেলা

জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সেলিনা জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি রুনা লায়লা। উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কবিতা বর্মন, যুগ্ম সম্পাদক গৌরী চন্দ, সদস্য রোকসানা আহমদসহ অন্যরা।

বয়সভিত্তিক এই সাঁতার প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর উপজেলার বালিকারা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় সদর উপজেলা এবং রানারআপ হয় নাচোল উপজেলা।

আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিকাশে আনা বা পাঠানো কি ভাবে দেখুন- জাহান বাংলা।

আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিকাশে আনা বা পাঠানো কি ভাবে দেখুন- জাহান বাংলা।


আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিকাশে আনা বা পাঠানো কি ভাবে?

এখন বিকাশ অ্যাপে আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট লিংক করে বিকাশ থেকে ব্যাংক-এ টাকা পাঠান কিংবা ব্যাংক থেকে বিকাশ-এ টাকা আনুন, মুহূর্তেই! 

আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিকাশে আনা বা পাঠানো কি ভাবে?

কিভাবে বিকাশ অ্যাপে আইএফআইসি ব্যাংক একাউন্ট লিংক করবেন?

১। অ্যাপে আইএফআইসি ব্যাংক একাউন্ট লিংক করতে ট্র্যান্সফার মানি ট্যাপ করুন

২। ব্যাংক একাউন্ট ট্যাপ করে, আইএফআইসি ব্যাংক সিলেক্ট করুন

বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে নিচের লিংক ক্লিক করুন।সাথে থাকছে বোনাস, রিচার্জ, ক্যাশ আউট, সাকল ধরণের অফার। আর দেরি না এখনি ডাউনলোড করুণ বিকাশ অ্যাপ

ডাউনলোড বিকাশ অ্যাপ

৩। একাউন্ট যোগ করতে ট্যাপ করুন "ব্যাংক একাউন্ট যোগ করুন" বাটন  

৪। ব্যাংক একাউন্ট নাম্বার এবং একাউন্টের নাম লিখুন

৫। SMS- এ পাওয়া OTP দিয়ে কনফার্ম করুন

বিকাশ অ্যাপ-এ আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক একাউন্ট লিংক হয়ে গেল! 

মনে রাখবেনঃ বিকাশ অ্যাপে লিংক করতে ব্যাংক একাউন্টে প্রদত্ত মোবাইল নাম্বার ও জন্ম তারিখ একই হতে হবে, অন্যথায় ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় গিয়ে তথ্য আপডেট করুন।

আইএফআইসি (IFIC Bank) ব্যাংক লিমিটেডে অভিজ্ঞতা ছাড়ার নিয়োগ দেওয়া হবে - জাহান বাংলা

আইএফআইসি (IFIC Bank) ব্যাংক লিমিটেডে অভিজ্ঞতা ছাড়ার নিয়োগ দেওয়া হবে - জাহান বাংলা


আইএফআইসি ব্যাংকে (IFIC Bank) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১

আইএফআইসি (IFIC Bank) ব্যাংক লিমিটেডে ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
আগ্রহীরা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
IFIC Bank Ltd IFIC ব্যাংক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১

আইএফআইসি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১।
প্রতিষ্ঠানের নাম: আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড (IFIC Bank LTD) 

পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর।( তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়)

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ৩১ অক্টোবর ২০২১ তারিখে ৩০ বছর
অভিজ্ঞতা: প্রযোজ্য নয়
বেতন: ৫৩,৬০০ টাকা
কর্মস্থল: বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে

আবেদন করার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুণ career.ificbankbd.com এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আইএফআইসি ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২১ বিস্তারিত দেখুন।
আবেদনের শেষ সময়: ৩১ অক্টোবর ২০২১


ভারতীয় টেলিভশন চ্যানেল জি বাংলা (Zee Bangla tv) বন্ধের দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশে সম্প্রচারে ফিরেছে

ভারতীয় টেলিভশন চ্যানেল জি বাংলা (Zee Bangla tv) বন্ধের দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশে সম্প্রচারে ফিরেছে

ভারতীয় টেলিভশন চ্যানেল জি বাংলা (zee Bangla tv) বন্ধের দুই সপ্তাহ পর বাংলাদেশে সম্প্রচারে ফিরেছে 

ভারতীয় টেলিভশন চ্যানেল জি বাংলা Zee Bangla Tv ক্লিনফিড বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশে সম্প্রচারে ফিরেছে । বাংলাদেশে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে জি বাংলা (Zee Bangla tv ) চ্যানেলটিতে এখন আর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে না।

জি বাংলা Zee Bangla Tv show 2021

বন্ধের দুই সপ্তাহ পর জি বাংলা কর্তৃপক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) ক্লিন ফিড পেয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে ক্যাবল অপারেটররা চ্যানেলটি সম্প্রচার করছেন।

সরকারি নির্দেশনা মেনে গত ১ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠানের মধ্যে বিজ্ঞাপন প্রচার করে- এমন বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ রেখেছেন বাংলাদেশের ক্যাবল অপারেটররা।

ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি এস এম আনোয়ার পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ অনুযায়ী আমরা চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছি। ক্লিন ফিড না থাকা অনেক বিদেশি চ্যানেল এখন সম্প্রচারে নেই। জি বাংলা কর্তৃপক্ষ ক্লিন ফিড দেওয়ায় শুক্রবার থেকে ক্যাবল অপারেটররা চ্যানেলটি সম্প্রচার করছেন। জানা গেছে, জি বাংলা থেকে ক্লিন ফিড পেলেও অনেক ক্যাবল অপারেটর সেটি চালাতে পারছেন না। বাড়তি খরচের কারণে অনেকে এখনো চ্যানেলটি সম্প্রচার শুরু করতে পারেননি। ক্লিনফিড দিয়ে চ্যানেল পরিচালনার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে অপারেটরদের।

পরে গত ৫ অক্টোবর সব চ্যানেল বন্ধ না রেখে বিজ্ঞাপনবিহীন (ক্লিন ফিড) বিদেশি টিভি চ্যানেলে বা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের নির্দেশ দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের একটি চিঠি দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়।

ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা: ভারতবর্ষে  আগমন - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা: ভারতবর্ষে আগমন - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন বিশ্বের ইতিহাস বাংলায় 

বিশ্বের অন্যতম প্রচীন সভ্যতার লীলভূমি ভারতবর্ষ উপমহাদেশ।  এর অফুরন্ত সম্পদ এবং ঐশ্বর্য যুগে যুগে বিদেশিদের করেছে আকৃষ্ট। তাই বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ উপমহাদেশে বিভিন্ন জাতির আগমন ঘটেছে সম্পদ গ্রহণ করার আশায়। কেউ ভারতবর্ষে আগমন করেন হানাদানর রূপে,  আবার কেউ বণিক বেশে। ভারতবর্ষ উপমহাদেশের অতুল ঐশ্বর্য ও ধনসম্পদ খবর পেছে বিদেশিরা এরপরই তারার ব্যবসায় উদ্দেশ্য অন্যান্য জাতির মত ইউরোপীয় এই দেশে আগমন ঘটেছে ছিল। এখন এর বিস্তারিত জানবোঃ

ভারতবর্ষে আগত ইউরোপীয় কোম্পানীসমূহঃ

বহু প্রচীনকাল থেকে পাশ্চাত্য দেশগুলোর সাথে উপমহাদেশে বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক ছিল। ক্রুসেডের পর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ইতালির  ভেনিস, ফ্লোরেন্স জেনোয়া প্রভৃতি নগর রাষ্ট্রগুলো এশিয়া মাইনরের শহরগুলোতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করেছিল।

১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে তুরস্ক কনস্টান্টিনোপল অধিকার করে ভূমধ্যসাগরীর অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করলে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে উপমহাদেশের ব্যবসায় বাণিজ্যিক পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। সমগ্র ইউরোপীয় দেশসমূহে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী বিশেষ করে মসলা সোনা রুপার চাহিদা অত্যধিক অনুভুত হওয়ায় তারা ভারতীয় উপমহাদেশের সাথে নতুন পথের সন্ধান করেছিল।

মানচিত্র ভাস্কো-দো-গামা কর্তৃক নতুন পথের আবিষ্কারঃ

পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইউরোপ মহাদেশের ভৌগোলিক আবিস্কার এবং পর্তূগিজ শক্তির উত্থান ঘটায় তাঁরা দুঃসাহসিক আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে।  ইউরোপীয় জাতিসমূহে মধ্যে পর্তুগিজগণ ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসী এবং নৌবিদ্যায় পারদর্শী। 

১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে নাবিক বার্থলামিউ দিয়াজ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে আসেন। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ মে তিনি উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন। ভাস্কো-দো-গামার উপমহাদেশে আগমনের সাথে ইউরোপের সঙ্গে এ দেশের প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

পর্তুগিজ কোম্পানিঃ ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দো-গামার উপমহাদেশ আগমন ভৌগোলিক আবিস্কার দিক দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ভাস্কো-দো-গামার যখন কালিকট বন্দরে অবতরণ করেন তখন সে খানকার স্থানীয় রাজা জামোরিক তাঁকে আতিথেয়তা প্রদান করেন। এতে আরব বণিকগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে পর্তুগিজদের বিরোধিতা করতে থাকে। 


ভাস্কো-দো-গামার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে পেড্রো আল-ভারেজ কাব্রাল তেরটি নৌবহরসহ উপমহাদেশে আগমন করেন।

কালিকটের রাজা জামোরিক তাঁকে যথাযথ আতিথেয়তা প্রদান করেন। কিন্তু তিনি আরব বণিকদের প্রতি ক্রমাগত দমননীতির ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় মুসলমান, গুজরাট ও মিসরের সুলতানের সাহায্যে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু পর্তুগিজ বাণিজ্য জাহাজগুলো আধুনিক রণতরীর মতোই কামান দ্বারা সুসজ্জিত থাকায় কালিকটের রাজার সম্মিলিত বাহিনী পর্তুগিজদের নিটক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।

ভারতীয় রাজন্যর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতা সম্মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠে পর্তুগিজদের কাছে। ফলে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। কাব্রালের উপমহাদেশে ত্যাগের পর ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে ভাস্কো-দো-গামা পুনরায় ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। এবং কোচিন ও ক্যানোনোরে দুটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন। এরপর পর্তুগিজগণ বছরে একজন করে পতিনিধি প্রেরণ করেন ভারতীয় বাণিজ্যকুঠিগুল তদারক করার নীতি প্রবর্তন করেন।

ভারতীয় বাণিজ্য কুঠিগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্সিকো ডি-আল মিডার প্রত্যাবর্তনের পর আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজগণ খুব সমৃদ্ধ এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আলবুকার্ক পর্তুগিজ গভর্নরদের মধ্যে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।  ভারতীয় উপমহাদেশের রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। এ উদ্দেশ্য তিনি বিজাপুরের সুলতানের নিটক থেকে গোয়া দখল করে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্দ্র ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলেন। 

এর পর তিনি  মালাক্কা এবং হুরমুজ দখল করে কোচিনে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করেন। ভারতীয় জনগণের প্রতি পর্তুগিজদের অত্যাচার, উৎপীড়ন সত্ত্বেও তিনি ভারতে একটি স্থায়ী পর্তুগিজ সমাজ গড়ে তুলেন জন্য ভারতীয় মহিলাদের বিয়ে করার নির্দেশ দেন। পর্তুগিজদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য তিনি নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করেন এবং তিনি ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে মারা যান।  তার উত্তরাধিকারিগণ দিউ, দমন, কালিকট, কোচিন, বোম্বাই, সিংহল, হুগলি এবং বঙ্গদেশে শক্তিশালী বাণিজ্য কুঠি স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল। 

পর্তুগিজদের পতন

ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে পর্তুগিজগণ সর্বপ্রথম উপমহাদেশে আগমন করে। উপমহাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী দুর্গ এবং বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করে। কিন্তু ভারতীয়দের প্রতি ক্রমে তাদের দুর্ব্যবহার এবং উৎপীড়ন পর্তুগিজদের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথমতঃ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং অধিকৃত অঞ্চলসমূহের জনগণের প্রতি অমানুষিক উৎপীড়ন পর্তুগিজদের পতনের অন্যতম কারণ। জোরপূর্বক হিন্দু-মুসলমান বালক-বালিকাকে অপহরণ করে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিতকরণ অথবা দাস-দাসীতে পরিণত করা, সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহলের দুজন পরিচারিকাকে অপহরণ করার মতো ধৃষ্টতা সম্রাটকে উত্তোজিত করে তোলে। সম্রাট ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে কাসিম থানের নেতৃত্ব এ অবাঞ্ছিত বিদেশিদেরকে হুগলি হতে বিতাড়িত করেন।

দ্বিতীয়তঃ উপমহাাদেশের অধিকৃৃৃত অঞ্চলসমূহে পর্তুগিজদের   শাসন ছিল কলুষিত এবং দুর্নীতিপরায়ণ। তারা নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় জনগণের নিকট থেকে অতিরিক্ত কর এবং  উৎকোচ গ্রহণ করতো। তাদের নিষ্ঠুর ব্যবহার এবং উদ্ধত  আচরণ এদেশে পর্তুগিজ শাসনের পরিপন্থী ছিল।

তৃতীয়তঃ পর্তুগিজ সরকার আলবুকার্কের পর অপর কোনো প্রতিভাসম্পন্ন গভর্নর উপমহাদেশে প্রেরণ করতে পারেননি। পরবর্তী পর্তুগিত গভর্নরদের অদূরদর্শিতা তাদের পতনের অন্যতম কারণ ছিল পর্তুগিজদের পতনে। 

চতুর্থতঃ ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ফিলিপস-এর নেতৃত্বে স্পেন ও পর্তুগাল একত্রিত হয়ে ওলন্দাজ ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ যুদ্ধে স্পেন ও পর্তুগাল প্রভূত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সুদূর ভারতে তাদের রাজ্য রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয় নি।

পঞ্চমতঃ এ সময় আরও তিনটি ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে। তারা হলো,  ওলন্দাজ,  ফারসি, ইংরেজ। তারা পরম্পর বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত থাকায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। পরস্পর শক্তি পরীক্ষায় লিপ্ত হয়ে পর্তুগিজগণ উপমহাদেশে গোয়া, দমন এবং দিউ ব্যতীত সমস্ত বাণিজ্য কুঠিগুলো হারিয়ে ফেলে। শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেরে পর্তুগিজদের অপসারণে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ ও ফারসি শক্তিই প্রবল হয়ে ওঠে।

ষষ্ঠতঃ স্বদেশ হতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সাহায্যের অভাবে পর্তুগিজ কোম্পানি তাদের নিয়ম - শৃঙ্খলা হারিয়ে ফেলে। তারা গোপনীয়ভাবে নানা প্রকার অবৈধ ব্যবসায় বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু মুঘল সম্রাট আকবরের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পর্তুগিজদের অগ্রগতি ব্যাহত হয়ে পড়ে।

এই ভাবে ভারতবর্ষে আগমন ইউরোপীয় পর্তুগিজের পতন ঘটে। আর সকল ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হবে পরবর্তী পোস্ট গুলোতে আমাদের সঙ্গে থাকুন। ধন্যবাদ 
ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের শাসন বিস্তারিত জানবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের শাসন বিস্তারিত জানবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের শাসন বিস্তারিত জানবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ইংরেজদের ভারতবর্ষে আগমন

বাণিজ্যের উদ্দেশ্য  ইউরোপীয় জাতি ন্যায় ইংরেজদের উপমহাদেশে (ভারতবর্ষে)  আগমন হয়। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের গুলো আগমনের অ্যনতম একটি দেশ ইংরেজ।ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের সাফল্যজনক সমুদ্র যাত্রা,  বহির্বাণিজ্যের সাফল্য,  ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সিস ড্রেকের পৃথিবী পরিভ্রমণ, ইংরেজ নৌবহর কর্তৃত স্পোনীয় আর্মাডার পরাজয়, রালফ ফীচ এবং সিনডেন হলো কর্তৃত উপমহাদেশে অতুল ঐশ্বর্যের বর্ণনা ইংরেজ বণিকগণকে প্রাচ্যে ব্যবসায়ের জন্য অতিমাত্রায় উৎসাহিত করে।

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে একটি বণিক সম্প্রদায় গঠন করে প্রাচ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের নিকট একটি সনদ প্রার্থনা করে। নবগঠিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে পরিচিত। 

একজন শাসনকর্তা, একজন সহকারী শাসনকর্তা এবং চব্বিশ সদস্য বিশিষ্ট নিয়ে গঠিত এ কোম্পানিকে রানি পনের বছর মেয়াদে প্রাচ্য বাণিজ্যের আধিকরা বা অনুমতি প্রদান করেন। ১৬০০ খ্রিস্টব্দের ৩০ ডিসেম্বর এ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

ভারতবর্ষে কিভাবে ইংরেজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন হয়ঃ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রথমদিকে নানাবিধ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কেননা ইংরেজ বণিকগণের আগমনের বহু পূর্বেই পর্তুগিজ এবং ওলন্দাজগণ প্রাচ্যের বাণিজ্য ঘাঁটিগুলো দখল করে নিয়েছিল।  সে জন্য তাদেরকে পর্তুগিজ এবং ওলন্দাজ বণিকদের সঙ্গে একাধিক বিরোধিতা এবং তীব্র পতিদ্বন্দ্বিতার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। প্রথম দিকে ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্য জাহাজ জাভা, সুমাত্রা, মালাক্কা ও যবদ্বীপের দিকে প্রেরিত হয়।

কিন্তু ওলন্দাজ বণিক কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে ইংরেজগণ ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতে বাণিজ্য কুঠি  নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ সময় ক্যাপ্টেন হকিন্স ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস এর অনুমতি নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন।

হকিন্সের আবেদনক্রমে ইংরেজগণ সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে সুরাটে একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। কিন্তু সুরাটের ভারতীয় বণিক সম্প্রদায় এবং পর্তুগিজদের বিরোধিতা কারণে সম্রাট কর্তৃক ইংরেজদের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা সবাই প্রত্যাখ্যাত হয়।

ফলে মালয় দ্বীপে ওলন্দাজদের বিরোধিতা এবং ভারতীয় পর্তুগিজদের অসহযোগিতায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রভূত অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। ১৬১২ খ্রিস্টব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটি বাণিজ্য জাহাজ সুরাট বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পর্তুগিজ নৌবহর গতিরোধ করে।

কিন্তু ইংরেজ কোম্পানির ক্যাপ্টেন বেস্ট শীঘ্রই পর্তুগিজ নৌবহর বিধ্বস্ত করে সুরাটে অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে মুঘলদের নিকট ইংরেজদের প্রতিপত্তি এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ক্যাপ্টেন বেস্টের সাফল্য মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর সন্তুষ্ট হয় এবং ১৬১৩ খ্রিস্টব্দে এক ফরমান বলে সুরাটে ইংরেজগনকে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন।

১৬১৫ খ্রিস্টব্দে ইংরেজগণ অপর একটি নৌযুদ্ধ পর্তুগিজগণকে পরাজিত এবং বিতাড়িত করে হুরমজ দখল করে। ১৬১৫ খ্রিস্টব্দে রাজা জেমস এর রাজত্বকালে স্যার টমাস রো রাষ্ট্রদূত হিসাবে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন।

তিনি দীর্ঘ বছর মুঘল দরবারে অবস্থান করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য কতগুলো বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা লাভ করেন। এর ফলে ইংরেজগণ সুরাট,  আগ্রা, আহমদাবাস এবং ব্রোচ প্রভৃতি স্থানে বানিজ্য কুঠি স্থাপন সক্ষম হন। এ সকল  অঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালনার ভার একজন ইংরেজ রেসিডেন্ট ও একটি কাউন্সিলার হস্তে ন্যস্ত করা হয়।

ফলে পূর্ব সমুদ্রে পর্তুগিজ শক্তি অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৬৬১ খ্রিস্টব্দে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস পর্তুগিজ রাজকন্যা ক্যাথারিন খব ব্রাগান্ডকে বিয়ে করে যৌতুকস্বরূপ বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) শহরটি লাভ করেন।

এর কিছুকাল পর বাৎসরিক পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি তা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট বিক্রয় করেন। ফলে পশ্চিম ভারতে সুরাটের পরিবর্তে বোম্বাই ( মুম্বাই) ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ১৬১১ খ্রিস্টব্দে উপমহাদেশের দক্ষিণ -পূর্ব উপকূলে গোলকুন্ডা রাজ্যের মসলিপট্টমে ইংরেজগণ একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করেছিল। 

কিন্তু সেখানে দেশীয় বণিক এবং ওলন্দাজদের অবিরত বিরোধিতার ফলে ইংরেজগণ ১৬২৬ খ্রিস্টব্দে আরামগাঁও নামক স্থানে অপর একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

বাৎসরিক শুল্ক প্রদান অঙ্গীকার গোলকুন্ডার সুলতানের নিকট থেকে মসলিপট্টমসহ অন্যান্য বন্দরসমূহে বাণিজ্যিক  অধিকার লাভ করে। ইতোমধ্যে ফ্রান্সিস ডে নামক একজন ইংরেজ নাবিক চন্দ্রগিরির রাজার নিকট থেকে মাদ্রাজের ইজারা লাভ করে সেখানে সেন্ট জর্জ নামে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। এরূপে মাদ্রাজ ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্যিকেন্দ্রে পরিণত হয়। ক্রমে ক্রমে ইংরেজগণ উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, পাটনা,  এবং কাশিম বাজারে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।

উপমহাদেশে ব্যবসায় বাণিজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আশানুরূপ সুবিধা করতে না পারায় ক্রমে তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটতে থাকে।  সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ইংরেজ বণিকগণ শান্তির নীতি পরিত্যাগ করে যুদ্ধনীতি গ্রহণ করে।

তাদের বানিজ্যিক মানদণ্ড রাজদন্ডে পরিণত হয়। এর পশ্চাতে নানাবিধ কারণ ছিল। প্রথমত দাক্ষিণাত্যের মুঘল মারাঠা সংঘর্ষ। মারাঠাগণ কর্তৃক সুরাট বন্দর লুন্ঠন এবং বাংলাদেশ মুঘল শাসনের ক্রমাবনতির ফলে ইংরেজগণ উপমহাদেশে সম্রাজ্য স্থাপনে উৎসাহী হয়ে ওঠে।

দেশীয় রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ১৬৮৮ খ্রিস্টব্দে মুঘলদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারনের অনুমতি লাভ করে। ফলে বাংলাদেশ ইংরেজ বণিকদের শুল্ক সংক্রান্ত ব্যাপারই ছিল এ সংঘর্ষের মূল কারণ।

এ সময় যশুয়া চাইল্ড নামে ইংরেজ কোম্পানির একজন প্রভাবশালী ডাইরেক্টরের আবির্ভাব ঘটে। যশুয়ার সম্প্রসারণ নীতি অনুসরণ করে তাঁর ভ্রাতা স্যার জন চাইল্ড  বোম্বাই বন্দর অবরোধ করে মুঘল নৌবহর আটক করেন।

ইংরেজদের ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকালাপে আওরঙ্গজেব ক্ষুব্ধ হয়ে বোম্বাই আক্রমণের নির্দেশ দেন। ১৬৯০ খ্রিস্টব্দে জন চাইল্ড সম্রাট বাহিনীর নিকট পরাজিত হয়ে আওরঙ্গজেবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ইংরেজগণ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ নগদ দেড় লাক্ষ টাকা এবং তাদের অধিকৃত অঞ্চলসমূহ সম্রাটকে ফেরত দিয়ে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। সম্রাটের বাৎসরিক বারশ টাকার বিনিময়ে কলিকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুরের জমিদারী লাভ করে রাজ্য তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গ নির্মাণ করেন।

পরবর্তী কালে একে কেন্দ্র করে কলিকাতা মহানগরী গড়ে ওঠে এভাবে উপমহাদেশে কলিকাতা, মাদ্রাজ এবং বোম্বাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শক্তিশালী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্য ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিস্টব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। স্যার উইলিয়ম নরিসের নেতৃত্বে নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশের ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

কিন্তু নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ - সুবিধা লাভে ব্যর্থ হলে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি সংযুক্ত কোম্পানি গঠন করা হয়। নতুন কোম্পানি নাম The United company of Merchants of England Trading to the East Indies নামে পরিচিত লাভ করেন।

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ যুক্ত কোম্পানি উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করেন। অষ্টাদশ শতব্দীর শুরু থেকে কোম্পানির বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত হয়। ১৭১৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির পক্ষ হতে জন সুরম্যান বানিজ্যিক সুযোগ -সুবিধা লাভের অভিপ্রায়ে মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে গমন করেন। এ সময় সম্রাট ফররুখশিয়ার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটন তাকে সুস্থ করে তোলেন। 
এতে সম্রাট ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ, এবং বোম্বাইেয় বিনাশুল্কে ইংরেজদেরকে বাণিজ্যিক সনদ প্রদান করেন। ঐতিহাসিক ওমর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সম্রাট কর্তৃক প্রদত্ত এ সনদকে ম্যাগনা কার্টা বা মহা সনদ বলে উল্লেখ করেছেন।

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ফরাসিগণ সর্বশেষে উপমহাদেশে আগমন করেন।  ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এর অর্থ সচিব কোলবার্টের নেতৃত্বে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ইতিপূর্বে বহু ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ব্যবসায়ের নিমিত্তে উপমহাদেশে আগমন করে বিভিন্ন স্থানে বানিজ্য কুঠি স্থাপন করেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ে সুবিধা করতে না পারায় ইংরেজ ব্যতীত সবাই উপমহাদেশে ত্যাগ করে স্বদেশে চলে যায়। অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রাচ্য ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য উৎসাহিত হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে।

এবং কারক্রমে তারা সুরাট, মসলিপট্টম, পন্ডিচেরী, চন্দননগর, মাহে ও কালিকাটে শক্তিশালী বাণিজ্যিকেন্দ্র স্থাপন করে। ফরাসিগণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই উপমহাদেশে আগমন করেন। কিন্তু বাণিজ্য ক্ষেত্রে আশানুরূপ সুবিধা করতে না পারায় তারা দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতায় হস্তক্ষেপ শুরু করেন।

১৭৪২ খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ফরাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি না থাকলেও ডুপ্লে এর আক্রমণের সাথে সাথে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে ওতপ্রোতাভাবে জড়িয়ে পড়েছে।  ফলে ইংরেজদের সাথে তাদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভারতীয় উপমহাদেশে ফরাসি সংঘর্ষের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

ইঙ্গ ফরাসি দ্বন্দ্বের প্রাক্কালে উপমহাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা


দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।  দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব ইউরোপে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বেরই একটি অংশ। আমেরিকায় ও ভারতবর্ষে উপনিবেশ ও বানিজ্য  বিস্তারের লক্ষ্যে ইউরোপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে হয়। বহুপূর্ব থেকেই ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে।

তাদের পারস্পরিক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবং শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেয়ে অনেকেই উপমহাদেশ ত্যাগ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু ইংরেজ ও ফরাসি বণিকগণ দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করলে উপমহাদেশে ইঙ্গ - ফরাসি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মুঘল শাসনের অবনতির সাথে সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা অতিশয় জটিল আকার ধারণ করে। পণথমত,  মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে দাক্ষিণাত্যের শাসনকর্তা আসফ-জা-নিজামউল মূলক স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। দ্বিতীয়ত, দাক্ষিণাত্যের মারাঠাগণ বাজীরাও এর নেতৃত্বে নিজামের প্রভুত্বকে অঙ্গীকার করলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। তৃতীয়ত, কর্ণাট নিজামের শাসনাধীন দাক্ষিণাত্যের একটি প্রদেশ "নবাব" নামে একজন শাসক কর্তৃক শাসিত হতো। কিন্তু নবাব উপাধিধারী কর্ণাটের শাসনকর্তা নিজামের প্রভুত্বকে অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন।  কর্ণাটের রাজধাণী ছিল আর্কট।  কর্ণাটের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং নিজাম ও মারাঠা সংঘর্ষের সুযোগ গ্রহণ করে দাক্ষিণাত্য ইংরেজ ও ফরাসি বলেন নিজ নিজ অবস্থানকে অধিকতর শক্তিশালী করে তোলে।
ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতিঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা কেমন ছিল তা আলোচনা করবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতিঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা কেমন ছিল তা আলোচনা করবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতিঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা কেমন ছিল তা আলোচনা করবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

১৯৪৭ সালে জিন্নাহ সাহেবের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে তথাকথিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ধর্ম ব্যতীত তা ছিল ভিন্ন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত দুটি পৃথক দেশ যার ভৌগোলিক অবস্থান,  ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল অনেক ব্যবধান। শক্তিশালী পাকিস্তানি রাষ্ট্র গঠনে উভয় অঞ্চলের জনস্বার্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তা সম্ভব হয় নি। ফলে শুরু থেকে বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ দানা বাঁধতে থাকে। পাকিস্তানিরা বাঙালিনিধনের হাতিয়ারস্বরূপ ভাষাসহ অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের নীতি গ্রহণ করা। ফলে নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের মসনদের ভিত্তি শুরু থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সালে পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শাসকচক্র বাংলাদেশকে শোষণ এবং শাসন করেছে। 

পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা

১৯৪৫-৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচন মুসলিম লীগের জয়লাভের পেছনে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলায় সর্বাপেক্ষ বড় অবদান ছিল হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৪৬ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার সংসদীয় নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। 

এ সময়ে তিনি অবিভক্ত বাংলার পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য মি. জিন্নাহর বিরাগভাজন হন। তিনি ছিলেন বাংলার মুসলমান জনগণের সত্যিকার দরদি বন্ধু। তাই তিনি বাংলাকে বিভক্ত করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু খাজা নাজিমুদ্দিন, নুরুল আমীন, মওলানা আকরম খাঁ প্রমুখ বাঙালি নেতা বাংলার স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এ সময় মি. জিন্নাহর বাংলা বিভগে নীতিকে সমর্থন করেছিলেন। 

ক্ষমতা ও নেতৃত্বের লোভে তাঁরা সে সময় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে তথ্য বাঙালির স্বার্থের বিরুদ্ধে মি. জিন্নাহকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর তা ঘৃণ্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর পরিবর্তে খাজা নাজিমুদ্দিনকে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়৷ অথচ পাঞ্জাব বিভক্ত হলেও সেখানে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয় নি। স্বাধীনতার পর লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে ভারত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভাব প্রদান করে।

কিন্তু ক্ষমতালোভী মুসলিম লীগের এবং মি. জিন্নাহ তা করেন নি। মি. জিন্নাহ নিজেই পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। এর ফলে ব্রিটিশ সরকার নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রকে এর ন্যায্য সম্পদ ও পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছিল।

১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্রের প্রস্তাব উত্থান করেন। বাংলার মুসলিম লীগ সম্পাদক আবুল হাসিম এবং কংগ্রেস প্রধান শরত বসু ও কিরণ  শষ্কর রায় এই প্রস্তাব পূর্ণ সমর্থন করেন।