অং সান সু চি মিয়ানমারের সরকারকে কেনো গ্রেফতার করেছে।


মিয়ানমার সরকার অং সান সুচি
অং সান সু চি

অং সু চি মিয়ানমারের সরকারকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে সামরিক শাসক জারি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী জানিয়েছেন যে তারা এক বছর জন্য জরুরি ভিত্তিতে সামরিক শাসক জারি করে তা ঘোষণা দিয়েছে। মিয়ানমারে শাসন ব্যবস্থা হস্তান্তর করা হয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান কমান্ডার ইন চিফ মিং অং হ্লেইং কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর মিয়ানমারের বেসামরিক নেতা অং সু চি কে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করেছেন।

মিয়ানমার বা র্বামা ১৯৪৮ সালে অং সু চি সেনা অভ্যুত্থান থেকে স্বাধীন পায়। এর পর মিয়ানমারে তিনবার নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ১৯৬২ সালে আবার সেনা অভ্যুত্থান হয়। ১৯৬২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেনা শাসন জারি ছিল। অং সান সু চি সেনা শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এর জন্য তাকে ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। অং সান সু চি এর বাবা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছেন এবং মিয়ানমার স্বাধীন করেছিলেন। এর পর তার বাবা নিহত হয়েছে।

অং সান সু চি ইংল্যান্ডে পড়ালেখা শেষ করেছেন ১৯৮০ সালে এরপর তিনি দেশে ফিরেছেন। এর পরে ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সেনা শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন অং সু চি। অং সু চি এর দল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এন এল ডি) ১৯৯০ সালে বিপুল ভোট পায়। কিন্তু সরকার নির্বাচনে সেনা শাসক স্বীকৃতি দেয়নি।

মিয়ানমারের সরকার অং সান সুচি ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলে।  এমনকি তার স্বামী ও দুই পুত্রের সাথে দেখা করতে পায়নি। কিন্তু তিনি গণতন্ত্রের লড়াই থেমে থাকিনি। তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। সুচি এর এই আনদোল সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয় এর জন্য সু চি কে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়েছিল। 

সু চি কে ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছে। তাকে নিয়ে ফারসি দেশে ছবির পরিচালক একি ছবি তৈরি করেছিল। তিনি আরো বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অত্যাচার চালাছিল তখন সুচি তাতে কোন বাধা দেননি। সেনাবাহিনীর অত্যাচারে রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করেন কিন্তু সু চি তাতে কোন ব্যবস্থা নেননি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গোটা বিশ্বা সু চি এর উপর চাপ দিতে শুরু করে। এর কারণে তার কাছ থেকে বেশ কিছু পুরষ্কার ফেরত নেওয়া হয়। নোবেল পুরষ্কার কমিটি থেকে তাকে নোটিশ দেন তাতেও কোন কিছু হয়নি। তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন।

মিয়ানমারের অষ্টম জাতীয় নির্বাচন গত বছর নভেম্বার মানে কারচুপি করে আবার তিনি ক্ষমতা আসেন। সু চি এর দলের বিরুদ্ধে অনেক কারচুপি অভিযোগ উঠেছেন। সেনাবাহিনী সাথে দূরত্ব ক্রমসাই বাড়ছিল।  কেউ কেউ বলছিল সেনা অভ্যত্থান ঘটতে পারে তা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।

রোবার সেনাবাহিনী আচমকা সুচিকে গ্রেফতার করে তার সাথে বেশ কিছু মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী দের গ্রেফতার করেছেন। তাদের কে অজানা জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। মিয়ানমারর সেনাশাসনের ঘোষণা সেনাবাহিনী প্রধান মিং অং  হ্লেইং টেলিভিশনে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন নির্বাচনের ভোট কারচুপি করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত এক বছর সেনা শাসন চলবে।

দেশ জুড়ে সরা দেশে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করেন। সরকারি টেলিভিশন টিঠ ভাবে দেখা যাছেনা। সুচি গ্রেফতারের খবর জানা গেছে সরকারি মুখপাত্র কাছ থেকে। তার সঙ্গে ও যোগাযোগ করা যাছেনা।

Next Post
No Comment
Add Comment
comment url