১৯৫২ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়কালে মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পূর্ণ ধারণা - Jahan Bangla News

বাংলাদশে স্বাধীন হলো কি ভাবে এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা দিবস কি ভাবে পালন করা হয়েছে সেই সম্পর্কে প্রথম সংক্ষিপ্ত এবং পরে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস

সংক্ষিপ্তঃ

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা লাভের জন্য বাঙালী অনেক দুঃখকষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করার পরে স্বাধীনতা লাভ করেছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেক মজিবুর রহমান ১৯৭০ সালে নেতৃত্ব তৎকালীন পাকিস্তানের নির্বাচনে একক সংক্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। 

পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পাকিস্তানি শাসকদের শোষণের হাত খেকে বাঁচতে বা মুক্তি পাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয় এবঙ বিজয় লাভ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের অর্থ্যৎ আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানি নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করেন। জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন তিনি ছিলে ১৯১৭ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ এর প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন ডাক দেন। ৭ মর্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য র্সবত্মাক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। 

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাঙলী বা পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের উপর ২৫ মার্চ আক্রমণ চালায়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চের প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং স্বাধীনতার সাংবিধানিক ঘোষণা পত্র গ্রহণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। র্দীঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়।


পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ৯৩ হাজার সদস্য আত্মসমর্পণ করে। বিশ্বের মানচিত্র বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশ হিসাবে যুক্ত হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সামরিক শাসনের সূত্রপাত ঘটে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের পুনঃপাত্রা শুরু হয়।

এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানবো —

  • বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ বা জানা।
  • স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনায় মুজিবনগর সরকারের ভুমিকা ও মূল্যায়ন।
  • মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন রাজৈনতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবি, নারী, গণ মাধ্যম, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভুমিকা।
  • মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব।


১৯৭০ সালে সাধারন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রদেশিক পরিষদ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগিরষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭১ সালে ৩ মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। পাকিস্তানি সামরিক শাসকচক্র আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা চক্রান্ত শুরু করেন। ভুট্টো ঢাকায় অধিবেশনে যোগদান করতে অস্বীকার করেন, অন্যান্য সদস্যদেরও তিনি হুমকি দেন। এসবই ছিল ভুট্টোর ষড়যন্ত্রের ফল। ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ ভুট্টোর ঘোষণাকে অজুহাত দেখিয়ে ৩ মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাথে কোনো প্রকার আলোচনা না করে অধিবেশন স্থগিত করেন এর কারণে পূর্ববাংলার জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারা দেশে হরতাল পালন হয়। ফলে সকল সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।  হরতাল চলাকালে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে বহুলোক হতাহত হয়। এমন পরিস্থিতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ তারিখে বিশাল এক জনসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। এ ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা করেন এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ - শাসন, নির্বাচনের জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা ও বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এ ভাষণ এক স্মরণীয় দলিল হয়ে আছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ঐতিহাসিক ভাষণের নজির আছে ৭ মার্চের ভাষণ তার অন্যতম, পৃথিবীর স্বাধীনতাকামী মানুষের নিকট এ ভাষণ অমর হয়ে থাকবে। ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা ও মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা পায়। এই ভাষণের পর বাঙালির জাতি যুদ্ধের জন প্রস্তুত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে পরবর্তী করণীয় ও স্বাধীনতা লাভের দিক নির্দেশনা ছিল-" প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো।  তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। "

তিনি আরও বলেন "রক্ত যখন দিয়েছি,  রক্ত আরও দেবো,  কিন্তু এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদেন মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।"

৭ মার্চ ভাষণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা শুরু করে বাঙালি আক্রমণের বিরুদ্ধ রুখে দাঁড়ায় এবঙ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পরেছিলো। 

বাংলাদেশ স্বাধীনতার যাত্রা


বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহ্বানের প্রতি সাড়া দিয়ে সকল স্তর জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার সকল অফিস,  কলকারখানা ইত্যাদি বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে।  ঠিক এ সময় ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। অপরদিকে গোপন আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য, গোলাবারুদ এনে পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। ১৭ মার্চ টিক্কা খান রাও ফরমান আলী "আপারেশন সার্চ লাইট" বা বাঙালির উপর নৃশংস গণহত্যা পরিচালনার নীলনক্সা তৈরি করে।  ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা, " আপারেশন সার্চলাইট " শুরু করেন। ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।  ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানষকে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প পিলখানা ইপিআর ক্যাম্প,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা শুরু করে বা চালায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৬ মার্চ প্রহরে বা ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি দিয়েছিলো ইংরেজিতে নিচে বাংলা অনুবাদ করে লেখা হলোঃ - " ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও"। স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশর সকল স্থানে তদানিন্তন ইপিআর এর ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র একবার ও সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। 

স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনায় মুজিবনগর সরকারের

বঙ্গবন্ধু তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সাথে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  শেখ মুজিবুর রহমান নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলার আম্রকাননকে নামকরণ করা হয় মুজিবনগর।  মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালে ১ড় এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল।  শপথ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাঠামো ছিল তা নিম্নরূপঃ-

  • রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়কঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
  • উপ-রাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ( বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)
  • প্রধানমন্ত্রীঃ তাজউদ্দিন আহমদ। 
  • অর্থমন্ত্রীঃ এম. মনসুর আলী
  • স্বরাষ্ট্র,  ত্রণা ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামা।
  • পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ

স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরলম প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়।

মুজিবনগর সরকার কার্যক্রম


মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় ১৯৭০-৭১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় পরিষদের সদস্য দ্বারা।মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা ছিল সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।  

বাঙালি কর্মকর্তাদের নিয়ে সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করেন। এতে মোট ১২ টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল। এগুলো হচ্ছে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র৷ অর্থ-শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রীপরিষদ সচিবালয়,  সাধারণ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ,  ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, যুব ও অভ্যর্থনা শিবিরের নিয়ন্ত্রণ বোর্ড ইত্যাদি।  ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক,  বেসরকারি জনগণের নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিণী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।  ১০ এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশেকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে।  ১১ এপ্রিল তা পুনঃনির্ধারিত করে ১১ টি সেক্টর বিভক্ত করা হয়। 

মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র, পেশাজীবি।

রাজনৈতিক দলঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী একমাত্র দল হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ গতি-প্রকৃতি নির্ধারন করে। আওয়ামী লীগ প্রথম পূর্ব বাংলার জনগণকে  সাধিকার সংগঠন করে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url