এইচএসসি ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা উত্তর ২০২১

 

এইচএসসি ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা উত্তর ২০২১

গতকাল ২৬ জুলাই এইচএসসি ২০২১ সালে পরীক্ষার্থীর অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেন। এইচএসসি ২০২১ ১ম ও ২য় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট এক সাথে প্রকাশ করেন। এখন আমরা এইচএসসি ২০২১ এর ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এর উত্তর প্রকাশ করা হয়েছে।

বিঃদ্রঃ আপনাদের লেখার সুবিধাতে আমরা এই এ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তর PDF file দিয়েছে নিচে গিয়ে সে PDF file ডাউনলোড করতে পারবেন।

এইচএসসি ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা উত্তর ২০২১
নমুনা উত্তরঃ

অ্যাসাইনমেন্ট শুরু


ব্যবসায়ের ধারণাঃ

মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য বৈধভাবে পরিচালিত ঝুঁকিবহুল অর্থনৈতিক কার্যকলাপ হচ্ছে ব্যবসা।

পন্যদ্রব্য উৎপাদন পর তা ভোগকারী বক ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছেনো পর্যন্ত না ধাপা থাকে। এ সকল ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রম কার্যবলির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হয়।

কম দামে পন্য ক্রয় করে তা বেশি দাকে বিক্রয় করাকে সাধারণ অর্থে ব্যবসা বলা হয় থাকে।

বিশ্বের কোন অঞ্চলে, দেশ বা স্থান এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নহে।


২। ব্যবসায়ের আওতায় বা পরিধিঃ

ব্যবসায় বাণিজ্যের আওতা বা পরিধি ব্যাপক। বর্তমান যুগে ব্যবসায়কে সুনির্দিষ্ট সীমারেখা বা বেষ্টনী দিয়ে আবদ্ধ রাখা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। ব্যবসায়িক কার্যাবলি সম্পাদন করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিষয়ের সাহায্য নিতে হয়। নিম্নে ব্যবসায়ের আওতা বা পরিধি সমীকরণ ও চিত্রের সাহায্য উপস্থাপন করা হলোঃ

ব্যবসায়ের পরিধি= শিল্প+বাণিজ্য + সাহয়ক কার্যাবলি+ প্রত্যক্ষ সেবা

BS= I + B+ AF + DS


শিল্পের ব্যাখ্যাঃ

শিল্প কি? 

শিল্প হলো এক ধরনের কর্মপ্রচেষ্টা, যা প্রকৃতি হতে আহরণ সম্পদ তা রূপান্তর ঘটিয়ে মানুষের উপযোগী করা। কেবল এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায়। বস্তু বা সম্পদের এ রূপান্তর প্রক্রিয়াকে শিল্প বলা হয়।

উদাহরণঃ- তুলা হতে সুতা এবং সুতা হতে কাপড়, গাছ থেকে আসবাবপত্র। 


শিল্পের বৈশিষ্ট্যঃ

১। ব্যবসায়ের প্রথম ধাপ (Pirsd step of Business): শিল্পের মাধ্যমে প্রথম পণ্য উৎপাদিত হয়। এ উৎপাদিত পণ্য বাণিজ্যিক মাধ্যমে বিভিন্ন হাত বদল হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। 

২। উৎপাদনের সাথে সম্পৃত (Related to production): ক্রেতা বা ভোক্তাদের অভাবপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করা শিল্পের কাজ। যেমন- বাঁশ থেকে তৈরি করে কাগজ। 

৩। উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া(Process of Utility): সাধারণঃ অভাব পূরণের ক্ষমতকদের উপযোগ বলে। শিল্প প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত সম্পদগুলোকে একরূপ থেকে অন্যরূপে রূপান্তর করে নতুন উপযোগ সম্পন্ন পণ্য তৈরি করে।

শিল্পের প্রকারভেদঃ

(ক) প্রাথমিক শিল্পঃ প্রকৃতির উপর নির্ভর করে যে সকল শিল্পের বিকাশ ঘটে তাকে প্রাথমিক শিল্প বলে।

নিচে তিনটি প্রাথমিক শিল্পসূমহ হলোঃ

১। কৃষি শিল্প 

২। প্রজনন শিল্প

৩। নিষ্কাশন শিল্প

(খ) গৌণ শিল্পঃ

প্রাথমিকন শিল্পের দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের উপর নির্ভর করে যে শিল্প গঠিত হয় তাকে গৌণ শিল্প বলে।

১। উৎপাদন 

২। নির্মাণ

৩। সেবা


২। বাণিজ্যের ধারণা

ইংরেজি Commerce শব্দের বাংলা পরিভাষা হচ্ছে বাণিজ্য। যে শিল্পের কাঁচামাল ও শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসমূহ ক্রেতার নিকট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্থানগত, সময়গত, অর্থগত, ঝুঁকিগত সকল বাধা অপসারণের সাথে জড়িত সকল কার্যাবিলকে বাণিজ্য বলা হয়।

বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্যঃ

১। সেবার বণ্টনঃ শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে ভোক্তাদের যাতে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার কাজটি বাণিজ্য করে থাকে যার মাধ্যমে সেবার সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।

২। কার্য পরিধির ব্যাপকতাঃ বাণিজ্যের আওতা বা কর্ম পরিধি বিস্তৃত। একটি পণ্য উৎপাদিত হয় একটি নির্দিষ্ট স্থানে কিন্তু তা বিক্রি ও ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন স্থানে অর্থাৎ ক্ষেত্র বিশেষে বিশ্বব্যাপী।

৩। বিনিময় কার্যক্রমঃ বানিজ্য একটি বিনিময় কার্যক্রম। যার ফলে বাণিজ্যের সাথে দুটি পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকে। 

বাণিজ্যের প্রকারভেদঃ

১। অভ্যন্তরীণ

একটি দেশের নির্দষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে যে ক্রয়-বিক্রয় হয় তাকে অভ্যন্তরীণ বানিজ্য বলে।

ক. পাইকাির

খ. খুচরা ব্যবসা

২। আন্তর্জাতিক

দুই বা দুুইয়ের অধিক দেশের মধ্যে পল্যদ্রব্য ক্রয়- বিক্রয়কে বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।

ক. আমদানি

খ. রপ্তানি

গ. পুনঃরপ্তানি


প্রত্যক্ষ সেবার বৈশিষ্ট্যঃ

যদি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি সেবা প্রদান করে তবে তাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।

১। সুনির্দিষ্ট যোগ্যতাঃ সেবা মুজদ করা যায় না। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে সেবা প্রদান করে থাকে।

২। বৈসাদৃশ্যঃ একজন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সেবা সব সময় একই মানের হয় না। তাই বৈসাদৃশ্য প্রত্যক্ষ সেবার একটি বৈশিষ্ট্য। 

৩। বিনিময় মূল্যঃ অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যের বিনিময়ে প্রদত্ত ও প্রাপ্য প্রত্যক্ষ সেবাকে পণ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়।


প্রত্যক্ষ সেবার প্রকারভেদঃ

১। প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেঃ এই ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সেবা প্রদান করা হয়। যেমন - বিদুৎ, ওয়াসা ইত্যাদি। 

২। অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবেঃ এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে সেবা প্রাদন করা হয়। যেমন- উকিলের পরামর্শ, ডাক্তারের পরার্মশ ইত্যাদি। 


৩। ব্যবসায়ের কার্যাবলিঃ

ব্যবসায়ের কার্যাবলি কী?কাকে বলে?

পন্যদ্রব্য ক্রয় ও বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পদ উৎপাদ অথবা সম্পদ সংগ্রহের জন্য মানুষের যাবতীয় কার্যাবলিকে ব্যবসায় বলক হয়। আর কার্যাবলি হচ্ছে মানুষের জীবনের বেঁচে থাকার জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়,  অর্থনৈতিক কার্যাবলি লিপ্ত হয়।

ব্যবসার জন্য পণ্য উপাদন ক্রয়, বিক্রয়, পরিকল্পনা,  অর্থসংস্থান, মজুদকরণ, হিসাবরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নিতে যে ব্যবসার কাজ করে তাই ব্যবসায়ের কার্যাবলি।

নিচে ব্যবসায়ের কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

১। উৎপাদন (Production): ব্যবসায়ের প্রধান কাজ হচ্ছে উৎপাদন করা। পণ্য উৎপাদন না করলে ব্যবসায়ির পণ্য পাওয়া যাবে না। আমাদের জীবনে যে সকল পন্যদ্রব প্রয়োজন হয় তা, ব্যবসায়ের মাধ্যমে উৎপাদন হয়ে থাকে। তাই বলা যায় পণ্য উৎপাদন ব্যবসায়ের মুখ্য কাজ।

২। ক্রয়(Purchase): ক্রয় ব্যবসায়ের মুখ্য কাজ। দুটি কারণে ব্যবসায়ী পন্য ক্রয় করে। (ক) পুনরায় বিক্রয়ের জন্য ক্রয় এবং (খ) উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ক্রয়। ব্যবসায়ী ক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করতে পারে।

৩। বিক্রয় (Sales): বিক্রয় ব্যবসায়ের অন্যতম কাজ। বিক্রয় না করে কোন পণ্য ভোগ বা ব্যবহার করলে তা আর ব্যবসা হবে না। তাই ব্যবসায়ের প্রধান কাজ পণ্য ও সেবা বিক্রয়।

৪। অর্থসংস্থান (Financing): অর্থসংস্থান বা মূলধন সংগ্রহ ব্যবসায়ের অন্যতম কাজ। ম্যূলধন ব্যবসা নামক প্রতিষ্ঠানের Blood স্বরূপ। মূলধন ব্যবসায় স্থাপন, পরিচালনা, সম্প্রসারণসহ সার্বিক কাজে প্রয়োজন আছে বা লাগে।

৫। পরিকল্পনা (Planning): পরিকল্পনা ব্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কি পণ্য উৎপাদন করব, ক্রয় করব, বিক্রয় করব ইত্যাদি বিষয়ে চিন্তাধারা থাকতে হবে।

৬। হিসাবরক্ষণ(Accounting): সঠিক হিসাব রাখা, হিসাব হতে আয়-ব্যয় মুনাফা নির্ণয় করা। বৎসর শেষে সম্পদ ও দায় পরিমাণ নির্ধারণ করা, উৎপাদন মূল্য, বিক্রয় মূল্য, ইত্যাদি হিসাবরক্ষণ করা।

৭। বাজার গবেষণা(Market analysis): প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা জগতে গবেষণা একটি জরুরি কাজ। নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন, পণ্যের মান বৃদ্ধি, উপযোগ বা পণ্যকে নানাভাবে আকর্ষণীয় করে ক্রেতার মনযোগ আকৃষ্ট করা। পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

৮।ঝুঁকি গ্রহণ(Risk Taking): ঝুঁকির অপর নাম ব্যবসা ক্ষেত্রে ঝুঁকি কাজ করে। বলা হয়ে থাকে More risk more gain. পণ্যদ্রব্যকে বাজারজাতকরণ বা দূরবর্তী স্থান থেকে পণ্য সংগ্রহ, সর্বক্ষেত্রে আগুন, পানি, দুর্ঘটনা, চুরি ইত্যাদি ঝুঁকি থেকে যায়।


অর্থনৈতিক ৭টি গুরুত্বঃ

১। ব্যক্তির আয় বৃদ্ধিঃ ব্যবসা জগতের অধিকাংশ ব্যবসা হচ্ছে এক মালিকানা ব্যবসা এবঙ পৃথিবীর আদিম ব্যবসাও বটে। ব্যবসা দ্বারা মুনাফা অর্জন ও নিজস্ব কর্মস্থানের মাধ্যমে ব্যক্তি ব্যবসায়ী লাভবান হয়।

২। জাতীয় আয় বৃদ্ধিঃ ব্যবসা দ্বারা ব্যক্তিগত আয় বাড়ে এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতি সাধিত হয় এবং দেশের আয় বাড়ে।

৩। সম্পদের ব্যবহারঃ পৃথিবী হচ্ছে সম্পদের ভন্ডার। পৃথিবীর আনাচে কানাচের সকল জায়গায় সম্পদ লুকিয় আছে।

৪। অপ্রচলিত পণ্যের ব্যবহারঃ অপ্রচলিত পণ্য বলতে যে সকল পণ্য দেশের ব্যবহার হয় ন কিন্তু বিদেশে বিক্রি করে আয় অর্জন করা যায়।

৫। পরিবহণ খাতে উন্নয়নঃ ব্যবসায়ের কারণে পণ্য ও কাঁচামাল একস্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করতে হয়।

৬। প্রযুক্তিগত উন্নয়নঃ ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে নিত্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। প্রযুক্তি ব্যবসাকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সুযোগ করে দেয়।

৭।  ব্যাংক ও বীমার প্রসারঃ ব্যাংক ও বীমা হচ্ছে অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর ব্যবসা ছাড়া ব্যাংক ও বীমা চলতে পারে না।

অ্যাসাইনমেন্ট শেষ

এইচএসসি ২০২১ ১ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র এর উত্তর ২০২১

PDF Download


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url