এইচএসসি "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা উত্তর / সমাধান প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশ সরকারের নিদের্শে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রচনা প্রতিযোগিতা মূলোক একটি রচনা দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ড থেকে রচনা টি হলো "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" এর উত্তর আপনাদের নিজের মত করে লিখতে হবে তাহলে আপনি বিজয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বেশি।

আমাদের এই ওয়েবসাইট শুধু আপনাদের ধারণা নেওয়ার জন্য এই মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনার উত্তর দিয়েছে।

বিশেষ ভাবে আপনাদের অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, আপনারা এই উত্তর হুবাহুব লিখবে না আপনাদের নিজের মত করে লিখবে। ধন্যবাদ, 

মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ক গ্রুপ

"মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা প্রতিযোগিতা।

এইচএসসি, এসএসসি, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ষ্ঠ, ৯ম মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ক গ্রুপ এবং খ গ্রুপ।

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা ৭০০ ও ১২০০ শ্বদের দুই তি রচনা দেওয়া আছে আপনি দেখে লিখে নিতে পারেন। 

একাদ্বাশ - দ্বাদশ শ্রেণির জন্য মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ রচনা উত্তর।

"মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ"

ভূমিকা : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শুরু হয়েছিল কিন্তু বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম যুগ - যুগ ধরে চলে এসেছিল । অবশেষে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহিদের রক্ত ও অসংখ্য মা - বােনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এর সমাপ্তি ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে । এ দিন পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে । বাংলাদেশের । মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একদিকে যেমন করুণ , শােকাবহ , এর লােমহর্ষক অন্যদিকে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ও বীরত্বপূর্ণ ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক পটভূমি । ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন এক ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ - উদ - দৌলা ইংরেজদের নিকট পরাজিত হন । সেখান থেকেই বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় । বাঙালি জাতি চলে আসে ইংরেজদের শাসনাধীন । দু'শ বছর তারা রাজত্ব চালায় । বিজাতীয় শাসন , শােষণ , বঞ্চনা আর নিপীড়নের যাঁতাকলে বাঙালি জাতি নিষ্পেষিত হয়েছে । মনের কোণে লালিত স্বাধীনতা স্পৃহা আর ধূলি - লুণ্ঠিত স্বপ্নসাধ থেকে বিভিন্ন সময়ে এদেশের মানুষের মনে জন্ম

স্বাধীনতা আন্দোলন : পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মােহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘােষণা দেয়ার পর থেকেই মূলত স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ বপন করা হয় । রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে রােধ করার জন্য গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ । ১৯৫২ সালে পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘােষণা দিলে ছাত্র - জনতা পুনরায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে । ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ' আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে । এ আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য গুলি চালানাে হয় । এতে শহিদ হন সালাম , রফিক , জব্বার , বরকতসহ অনেকে । ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি এবং যুক্তফ্রন্টের অভূতপূর্ব বিজয় লাভ পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর ক্ষমতার ভিতকে নড়বড়ে করে দেয় ।

এইচএসসি "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা প্রতিযোগিতা।

ভরাডুবি এবং যুক্তফ্রন্টের অভূতপূর্ব বিজয় লাভ পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর ক্ষমতার ভিতকে নড়বড়ে করে দেয় । ১৯৬৫ সালে মৌলিক গণতন্ত্রের নামে আইয়ুব খান এক প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে এদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে নেয় । এখান থেকেই স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে । বাঙালির স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপিত হয় । ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা সাজিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে আটক করা হয় । কিন্তু গণআন্দোলনের মুখে তাকে আটকে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি । ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দেয়া হয় । ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় । সে রাতেই তদানীন্তন সামরিক একনায়ক জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেয় নিরীহ বাঙালি জনগণের ওপর । রাতের আঁধারে চলে নির্মম ও বর্বর গণহত্যা । সে রাতে গ্রেফতারের আগে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণা দেন । শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ । চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘােষণা প্রচার করা হয় । গােটা বাংলাদেশ জুড়ে স্বাধীনতার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যুত্থান ঘটে ।

মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয় । তার অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন । তাজউদ্দীন আহমদ পালন করেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব । মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হন কর্নেল ( অব . ) আতাউল গণি ওসমানী । এ সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিসংগ্রাম। 

 মুক্তবাহিনী গঠন : স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা এ দেশের অগণিত ছাত্র - জনতা , পুলিশ , ইপিআর , মুক্তবাহিনী গঠন : স্বাধীনতা  সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় । এ দেশের অগণিত ছাত্র - জনতা , পুলিশ , ইপিআর , আনসার ও সামরিক - বেসামরিক লােকদের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয় । পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্তি করার লক্ষ্যে তারা যুদ্ধ কৌশল , অস্ত্রচালনা ও বিস্ফোরক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় । যতই দিন যেতে থাকে ততই সুসংগঠিত হয় মুক্তিবাহিনী । মুক্তিবাহিনী গেরিলা যুদ্ধে রীতি অবলম্বন করে । শত্রুদের বিপর্যস্ত করে । বিশাল শত্রুবাহিনী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ নিয়েও মুক্তিবাহিনীর মােকাবিলায় সক্ষম হচ্ছিল।

এইচএসসি "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা প্রতিযোগিতা।

ভারতের সহযােগিতা ও স্বীকৃতি প্রদান : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে প্রতিবেশী ভারত সহযােগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় । ভারত বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় , বিভিন্ন অস্ত্র , সেনাবাহিনী ও কূটনৈতিক সহযােগিতার মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনেক দূর এগিয়ে দেয় । যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরে পাকিস্তান এ যুদ্ধকে পাক ভারত যুদ্ধ আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা চালায় । কিন্তু সােভিয়েত রাশিয়া এতে ভেটো প্রয়ােগ করায় জাতিসংঘ যুদ্ধ থামানাের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় । ৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান বিমান হামলা করার পর এদিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন ।

চূড়ান্ত বিজয় : ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সম্মিলিত সংগ্রামে ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪ টা ৩১ মিনিটে ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করে । বাংলাদেশের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং আরােরা এবং পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণেল দলিলে স্বাক্ষর করেন । ফলে দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রামের অবসান ঘটে এবং বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় লাল - সবুজ পতাকার স্বাধীন সার্বভৌম

উপসংহার : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে মিশে আছে এদেশের ছাত্র - শিক্ষক , কৃষক - শ্রমিক , সাংবাদিক , বুদ্ধিজীবী তথা আপামর জনতার রক্তিম স্মৃতি । লাখাে শহিদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ । তাই মুক্তিযােদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে আমাদের দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়ােগ করতে হবে । তাদের স্মৃতিচারণ না করে তাদের মতাে দেশাত্মবােধে জেগে উঠতে হবে । তবেই মুক্তিযুদ্ধের সার্থকতা প্রতিফলিত হবে ।


এইচএসসি "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা প্রতিযোগিতা। এই রচনার উত্তর উপরে দেওয়া আছে।
 "মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধ" রচনা পক ও খ গ্রুপের উত্তর বা সমাধান নিচে পিডিএফ (PDF)

ডাউনলোড 


শেয়ার করুন