ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতিঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা কেমন ছিল তা আলোচনা করবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়
ভাষা আন্দোলন ও এর গতি প্রকৃতিঃ পাকিস্তানি আমলে বাংলা কেমন ছিল তা আলোচনা করবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

১৯৪৭ সালে জিন্নাহ সাহেবের দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে তথাকথিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়। কিন্তু ধর্ম ব্যতীত তা ছিল ভিন্ন জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত দুটি পৃথক দেশ যার ভৌগোলিক অবস্থান,  ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল অনেক ব্যবধান। শক্তিশালী পাকিস্তানি রাষ্ট্র গঠনে উভয় অঞ্চলের জনস্বার্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই তা সম্ভব হয় নি। ফলে শুরু থেকে বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার এবং স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ দানা বাঁধতে থাকে। পাকিস্তানিরা বাঙালিনিধনের হাতিয়ারস্বরূপ ভাষাসহ অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক আধিপত্যের নীতি গ্রহণ করা। ফলে নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের মসনদের ভিত্তি শুরু থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সালে পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানি শাসকচক্র বাংলাদেশকে শোষণ এবং শাসন করেছে। 

পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা

১৯৪৫-৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচন মুসলিম লীগের জয়লাভের পেছনে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলায় সর্বাপেক্ষ বড় অবদান ছিল হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৪৬ সালে তিনি অবিভক্ত বাংলার সংসদীয় নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। 

এ সময়ে তিনি অবিভক্ত বাংলার পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য মি. জিন্নাহর বিরাগভাজন হন। তিনি ছিলেন বাংলার মুসলমান জনগণের সত্যিকার দরদি বন্ধু। তাই তিনি বাংলাকে বিভক্ত করতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু খাজা নাজিমুদ্দিন, নুরুল আমীন, মওলানা আকরম খাঁ প্রমুখ বাঙালি নেতা বাংলার স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এ সময় মি. জিন্নাহর বাংলা বিভগে নীতিকে সমর্থন করেছিলেন। 

ক্ষমতা ও নেতৃত্বের লোভে তাঁরা সে সময় হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর বিরুদ্ধে তথ্য বাঙালির স্বার্থের বিরুদ্ধে মি. জিন্নাহকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর তা ঘৃণ্য প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর পরিবর্তে খাজা নাজিমুদ্দিনকে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়৷ অথচ পাঞ্জাব বিভক্ত হলেও সেখানে নতুন করে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হয় নি। স্বাধীনতার পর লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে ভারত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভাব প্রদান করে।

কিন্তু ক্ষমতালোভী মুসলিম লীগের এবং মি. জিন্নাহ তা করেন নি। মি. জিন্নাহ নিজেই পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। এর ফলে ব্রিটিশ সরকার নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রকে এর ন্যায্য সম্পদ ও পাওনা থেকে বঞ্চিত করেছিল।

১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী সার্বভৌম স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্রের প্রস্তাব উত্থান করেন। বাংলার মুসলিম লীগ সম্পাদক আবুল হাসিম এবং কংগ্রেস প্রধান শরত বসু ও কিরণ  শষ্কর রায় এই প্রস্তাব পূর্ণ সমর্থন করেন।


শেয়ার করুন