ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের শাসন বিস্তারিত জানবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়
ভারতবর্ষে ইংরেজদের আগমন ও তাদের শাসন বিস্তারিত জানবো - বিশ্বের ইতিহাস বাংলায়

ইংরেজদের ভারতবর্ষে আগমন

বাণিজ্যের উদ্দেশ্য  ইউরোপীয় জাতি ন্যায় ইংরেজদের উপমহাদেশে (ভারতবর্ষে)  আগমন হয়। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের গুলো আগমনের অ্যনতম একটি দেশ ইংরেজ।ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের সাফল্যজনক সমুদ্র যাত্রা,  বহির্বাণিজ্যের সাফল্য,  ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সিস ড্রেকের পৃথিবী পরিভ্রমণ, ইংরেজ নৌবহর কর্তৃত স্পোনীয় আর্মাডার পরাজয়, রালফ ফীচ এবং সিনডেন হলো কর্তৃত উপমহাদেশে অতুল ঐশ্বর্যের বর্ণনা ইংরেজ বণিকগণকে প্রাচ্যে ব্যবসায়ের জন্য অতিমাত্রায় উৎসাহিত করে।

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে একটি বণিক সম্প্রদায় গঠন করে প্রাচ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের নিকট একটি সনদ প্রার্থনা করে। নবগঠিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামে পরিচিত। 

একজন শাসনকর্তা, একজন সহকারী শাসনকর্তা এবং চব্বিশ সদস্য বিশিষ্ট নিয়ে গঠিত এ কোম্পানিকে রানি পনের বছর মেয়াদে প্রাচ্য বাণিজ্যের আধিকরা বা অনুমতি প্রদান করেন। ১৬০০ খ্রিস্টব্দের ৩০ ডিসেম্বর এ সনদপত্র প্রদান করা হয়।

ভারতবর্ষে কিভাবে ইংরেজদের বাণিজ্য কুঠি স্থাপন হয়ঃ

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রথমদিকে নানাবিধ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কেননা ইংরেজ বণিকগণের আগমনের বহু পূর্বেই পর্তুগিজ এবং ওলন্দাজগণ প্রাচ্যের বাণিজ্য ঘাঁটিগুলো দখল করে নিয়েছিল।  সে জন্য তাদেরকে পর্তুগিজ এবং ওলন্দাজ বণিকদের সঙ্গে একাধিক বিরোধিতা এবং তীব্র পতিদ্বন্দ্বিতার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। প্রথম দিকে ইংরেজ কোম্পানির বাণিজ্য জাহাজ জাভা, সুমাত্রা, মালাক্কা ও যবদ্বীপের দিকে প্রেরিত হয়।

কিন্তু ওলন্দাজ বণিক কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে ইংরেজগণ ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতে বাণিজ্য কুঠি  নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ সময় ক্যাপ্টেন হকিন্স ইংল্যান্ডের রাজা প্রথম জেমস এর অনুমতি নিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন।

হকিন্সের আবেদনক্রমে ইংরেজগণ সম্রাট জাহাঙ্গীরের নিকট থেকে সুরাটে একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। কিন্তু সুরাটের ভারতীয় বণিক সম্প্রদায় এবং পর্তুগিজদের বিরোধিতা কারণে সম্রাট কর্তৃক ইংরেজদের প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা সবাই প্রত্যাখ্যাত হয়।

ফলে মালয় দ্বীপে ওলন্দাজদের বিরোধিতা এবং ভারতীয় পর্তুগিজদের অসহযোগিতায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রভূত অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। ১৬১২ খ্রিস্টব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুটি বাণিজ্য জাহাজ সুরাট বন্দরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পর্তুগিজ নৌবহর গতিরোধ করে।

কিন্তু ইংরেজ কোম্পানির ক্যাপ্টেন বেস্ট শীঘ্রই পর্তুগিজ নৌবহর বিধ্বস্ত করে সুরাটে অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে মুঘলদের নিকট ইংরেজদের প্রতিপত্তি এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ক্যাপ্টেন বেস্টের সাফল্য মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর সন্তুষ্ট হয় এবং ১৬১৩ খ্রিস্টব্দে এক ফরমান বলে সুরাটে ইংরেজগনকে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণের অনুমতি প্রদান করেন।

১৬১৫ খ্রিস্টব্দে ইংরেজগণ অপর একটি নৌযুদ্ধ পর্তুগিজগণকে পরাজিত এবং বিতাড়িত করে হুরমজ দখল করে। ১৬১৫ খ্রিস্টব্দে রাজা জেমস এর রাজত্বকালে স্যার টমাস রো রাষ্ট্রদূত হিসাবে সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আগমন করেন।

তিনি দীর্ঘ বছর মুঘল দরবারে অবস্থান করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য কতগুলো বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা লাভ করেন। এর ফলে ইংরেজগণ সুরাট,  আগ্রা, আহমদাবাস এবং ব্রোচ প্রভৃতি স্থানে বানিজ্য কুঠি স্থাপন সক্ষম হন। এ সকল  অঞ্চলের বাণিজ্য পরিচালনার ভার একজন ইংরেজ রেসিডেন্ট ও একটি কাউন্সিলার হস্তে ন্যস্ত করা হয়।

ফলে পূর্ব সমুদ্রে পর্তুগিজ শক্তি অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৬৬১ খ্রিস্টব্দে ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস পর্তুগিজ রাজকন্যা ক্যাথারিন খব ব্রাগান্ডকে বিয়ে করে যৌতুকস্বরূপ বোম্বাই (বর্তমান মুম্বাই) শহরটি লাভ করেন।

এর কিছুকাল পর বাৎসরিক পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি তা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট বিক্রয় করেন। ফলে পশ্চিম ভারতে সুরাটের পরিবর্তে বোম্বাই ( মুম্বাই) ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ১৬১১ খ্রিস্টব্দে উপমহাদেশের দক্ষিণ -পূর্ব উপকূলে গোলকুন্ডা রাজ্যের মসলিপট্টমে ইংরেজগণ একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করেছিল। 

কিন্তু সেখানে দেশীয় বণিক এবং ওলন্দাজদের অবিরত বিরোধিতার ফলে ইংরেজগণ ১৬২৬ খ্রিস্টব্দে আরামগাঁও নামক স্থানে অপর একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

বাৎসরিক শুল্ক প্রদান অঙ্গীকার গোলকুন্ডার সুলতানের নিকট থেকে মসলিপট্টমসহ অন্যান্য বন্দরসমূহে বাণিজ্যিক  অধিকার লাভ করে। ইতোমধ্যে ফ্রান্সিস ডে নামক একজন ইংরেজ নাবিক চন্দ্রগিরির রাজার নিকট থেকে মাদ্রাজের ইজারা লাভ করে সেখানে সেন্ট জর্জ নামে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। এরূপে মাদ্রাজ ইংরেজদের শক্তিশালী বাণিজ্যিকেন্দ্রে পরিণত হয়। ক্রমে ক্রমে ইংরেজগণ উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, পাটনা,  এবং কাশিম বাজারে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করেন।

উপমহাদেশে ব্যবসায় বাণিজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আশানুরূপ সুবিধা করতে না পারায় ক্রমে তাদের নীতির পরিবর্তন ঘটতে থাকে।  সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ইংরেজ বণিকগণ শান্তির নীতি পরিত্যাগ করে যুদ্ধনীতি গ্রহণ করে।

তাদের বানিজ্যিক মানদণ্ড রাজদন্ডে পরিণত হয়। এর পশ্চাতে নানাবিধ কারণ ছিল। প্রথমত দাক্ষিণাত্যের মুঘল মারাঠা সংঘর্ষ। মারাঠাগণ কর্তৃক সুরাট বন্দর লুন্ঠন এবং বাংলাদেশ মুঘল শাসনের ক্রমাবনতির ফলে ইংরেজগণ উপমহাদেশে সম্রাজ্য স্থাপনে উৎসাহী হয়ে ওঠে।

দেশীয় রাজন্যবর্গের দুর্বলতার সুযোগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ১৬৮৮ খ্রিস্টব্দে মুঘলদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারনের অনুমতি লাভ করে। ফলে বাংলাদেশ ইংরেজ বণিকদের শুল্ক সংক্রান্ত ব্যাপারই ছিল এ সংঘর্ষের মূল কারণ।

এ সময় যশুয়া চাইল্ড নামে ইংরেজ কোম্পানির একজন প্রভাবশালী ডাইরেক্টরের আবির্ভাব ঘটে। যশুয়ার সম্প্রসারণ নীতি অনুসরণ করে তাঁর ভ্রাতা স্যার জন চাইল্ড  বোম্বাই বন্দর অবরোধ করে মুঘল নৌবহর আটক করেন।

ইংরেজদের ঔদ্ধত্যমূলক আচরণ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকালাপে আওরঙ্গজেব ক্ষুব্ধ হয়ে বোম্বাই আক্রমণের নির্দেশ দেন। ১৬৯০ খ্রিস্টব্দে জন চাইল্ড সম্রাট বাহিনীর নিকট পরাজিত হয়ে আওরঙ্গজেবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ইংরেজগণ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ নগদ দেড় লাক্ষ টাকা এবং তাদের অধিকৃত অঞ্চলসমূহ সম্রাটকে ফেরত দিয়ে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। সম্রাটের বাৎসরিক বারশ টাকার বিনিময়ে কলিকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুরের জমিদারী লাভ করে রাজ্য তৃতীয় উইলিয়ামের নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়ম দুর্গ নির্মাণ করেন।

পরবর্তী কালে একে কেন্দ্র করে কলিকাতা মহানগরী গড়ে ওঠে এভাবে উপমহাদেশে কলিকাতা, মাদ্রাজ এবং বোম্বাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শক্তিশালী প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়। উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্য ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিস্টব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়ন করে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। স্যার উইলিয়ম নরিসের নেতৃত্বে নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশের ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

কিন্তু নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ - সুবিধা লাভে ব্যর্থ হলে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি সংযুক্ত কোম্পানি গঠন করা হয়। নতুন কোম্পানি নাম The United company of Merchants of England Trading to the East Indies নামে পরিচিত লাভ করেন।

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ যুক্ত কোম্পানি উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করেন। অষ্টাদশ শতব্দীর শুরু থেকে কোম্পানির বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত হয়। ১৭১৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির পক্ষ হতে জন সুরম্যান বানিজ্যিক সুযোগ -সুবিধা লাভের অভিপ্রায়ে মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে গমন করেন। এ সময় সম্রাট ফররুখশিয়ার কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটন তাকে সুস্থ করে তোলেন। 
এতে সম্রাট ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ, এবং বোম্বাইেয় বিনাশুল্কে ইংরেজদেরকে বাণিজ্যিক সনদ প্রদান করেন। ঐতিহাসিক ওমর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে সম্রাট কর্তৃক প্রদত্ত এ সনদকে ম্যাগনা কার্টা বা মহা সনদ বলে উল্লেখ করেছেন।

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি

ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ফরাসিগণ সর্বশেষে উপমহাদেশে আগমন করেন।  ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুই এর অর্থ সচিব কোলবার্টের নেতৃত্বে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়। ইতিপূর্বে বহু ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ব্যবসায়ের নিমিত্তে উপমহাদেশে আগমন করে বিভিন্ন স্থানে বানিজ্য কুঠি স্থাপন করেছিল। কিন্তু ব্যবসায়ে সুবিধা করতে না পারায় ইংরেজ ব্যতীত সবাই উপমহাদেশে ত্যাগ করে স্বদেশে চলে যায়। অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রাচ্য ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য উৎসাহিত হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে।

এবং কারক্রমে তারা সুরাট, মসলিপট্টম, পন্ডিচেরী, চন্দননগর, মাহে ও কালিকাটে শক্তিশালী বাণিজ্যিকেন্দ্র স্থাপন করে। ফরাসিগণ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই উপমহাদেশে আগমন করেন। কিন্তু বাণিজ্য ক্ষেত্রে আশানুরূপ সুবিধা করতে না পারায় তারা দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতায় হস্তক্ষেপ শুরু করেন।

১৭৪২ খ্রিস্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত ফরাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি না থাকলেও ডুপ্লে এর আক্রমণের সাথে সাথে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে ওতপ্রোতাভাবে জড়িয়ে পড়েছে।  ফলে ইংরেজদের সাথে তাদের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ভারতীয় উপমহাদেশে ফরাসি সংঘর্ষের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

ইঙ্গ ফরাসি দ্বন্দ্বের প্রাক্কালে উপমহাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা


দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।  দাক্ষিণাত্যে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্ব ইউরোপে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বেরই একটি অংশ। আমেরিকায় ও ভারতবর্ষে উপনিবেশ ও বানিজ্য  বিস্তারের লক্ষ্যে ইউরোপে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সকে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হতে হয়। বহুপূর্ব থেকেই ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করে।

তাদের পারস্পরিক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা এবং শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করতে না পেয়ে অনেকেই উপমহাদেশ ত্যাগ করে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে। কিন্তু ইংরেজ ও ফরাসি বণিকগণ দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করলে উপমহাদেশে ইঙ্গ - ফরাসি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। অষ্টাদশ শতাব্দীর মুঘল শাসনের অবনতির সাথে সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা অতিশয় জটিল আকার ধারণ করে। পণথমত,  মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে দাক্ষিণাত্যের শাসনকর্তা আসফ-জা-নিজামউল মূলক স্বাধীনতা ঘোষণা করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন। দ্বিতীয়ত, দাক্ষিণাত্যের মারাঠাগণ বাজীরাও এর নেতৃত্বে নিজামের প্রভুত্বকে অঙ্গীকার করলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। তৃতীয়ত, কর্ণাট নিজামের শাসনাধীন দাক্ষিণাত্যের একটি প্রদেশ "নবাব" নামে একজন শাসক কর্তৃক শাসিত হতো। কিন্তু নবাব উপাধিধারী কর্ণাটের শাসনকর্তা নিজামের প্রভুত্বকে অস্বীকার করে স্বাধীনভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন।  কর্ণাটের রাজধাণী ছিল আর্কট।  কর্ণাটের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং নিজাম ও মারাঠা সংঘর্ষের সুযোগ গ্রহণ করে দাক্ষিণাত্য ইংরেজ ও ফরাসি বলেন নিজ নিজ অবস্থানকে অধিকতর শক্তিশালী করে তোলে।

শেয়ার করুন