চীনকে সতর্ক করল তাইওয়ান! সামরিক সংঘাতে কোনও সমাধান নেই | জাহান বাংলা

চীনকে সতর্ক করল তাইওয়ান! সামরিক সংঘাতে কোনও সমাধান নেই।

ইংরেজি নববর্ষের ভাষণে চীনকে সতর্ক করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন বলেছেন, সামরিক সংঘাত কোনও সমাধান হতে পারে না। সামরিক দুঃসাহসিকতা না দেখাতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চীনকে সতর্ক করল তাইওয়ান! সামরিক সংঘাতে কোনও সমাধান নেই | জাহান বাংলা

স্থানীয় সময় শনিবার ফেসবুক লাইভে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন, তাইওয়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান কখনো চীনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গণতন্ত্র রক্ষায় বার বার লড়াই করে যাবে।  আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব দুই দেশের ওপরই র্কতৃত্ব্য বলেও উল্লেখ করেন সাই ইং ওয়েন।

সম্প্রতি তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে চীনের রেকর্ডসংখ্যক যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চীন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ বিবেচনা করে; স্বশাসিত দ্বীপটি যেন ‘চীনের অধীনতা’ থেকে বের হতে না পারে তা নিশ্চিত করতে গত দুই বছর ধরে বেইজিং তাদের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে।

নতুন বছর উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার ভাষণে বলেছেন, ‘মাতৃভূমির’ পূর্ণাঙ্গ একত্রীকরণ এমন একটি আকাঙ্ক্ষা, যা তাইওয়ান প্রণালীর দুই দিকের মানুষজনই ধারণ করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান বলে আসছে, তারা স্বাধীন দেশ। নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ‘যে কোনো মূল্যে’ রক্ষার প্রতিজ্ঞাও করে আসছে তারা।

সাই ইং ওয়েন বলেন, “প্রণালীর দুই পাশের মধ্যকার মতবিরোধের সমাধানে সামরিক হস্তক্ষেপ বিকল্প হতে পারে না। সামরিক সংঘাত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে"।

তিনি আরও বলেন, চাপে ভেঙে না পড়া এবং সহায়তা এলে তড়িঘড়ি করে তা গ্রহণ না করাই সবসময় তাইওয়ানের অবস্থান ছিল। এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে তাইপে এবং বেইজিং উভয়কেই ‘মানুষের জীবিকার দেখভালে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ও জনগণের হৃদয়কে শান্ত করতে হবে’, যেন একসাথে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।

তিনি জানান, স্থিতিশীল শাসন ব্যবস্থাই ২০২২ সালে তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। “আমরা আমাদের সার্বভৌমত্বকে নিরাপদ রাখবো, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখব, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করব এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখব"।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url