৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপিত, সাতই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ ১৯৭১, বাংলাদেশের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপিত,  সাতই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ ১৯৭১

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপিত

সাতই মার্চের ভাষণ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করেন বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে শেষ করেন। উক্ত ভাষণ ১৮ মিনিট স্থায়ী হয়। সেই ৭ মার্চ ভাষণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আপনারা সবই জানেন এবং বুঝেন । আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি । কিন্তু দুঃখের বিষয় , আজ ঢাকা , চট্টগ্রাম , খুলনা , রাজশাহী , রংপুরে আমার ভাইযের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে । আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায় , বাংলার মানুষ বাঁচতে চায় , বাংলার মানুষ তার অধিকার চায । ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপ্তি

কী অন্যায় করেছিলাম , নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে আওয়ামী লীগকে ভোট দেন । আমাদের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বসবে , আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈয়ার করব এবং এই দেশকে আমরা গড়ে তুলব , এ দেশের মানুষ অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে । কিন্তু দুঃখের বিষয় , আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় , তেইশ বৎসরের করুণ ইতিহাস বাংলার অত্যাচারের , বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস । তেইশ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর - নারীর আর্তনাদের ইতিহাস ; বাংলার ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস ।

১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি । ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই । ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করে দশ বৎসর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে । ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে ৭ ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে । ১৯৬৯ - এর আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন হওযার পর যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন , তিনি বললেন , দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন , গণতন্ত্র দেবেন । আমরা মেনে নিলাম । ভাইয়েরা আমার , ২৫ তারিখে অ্যাসেম্বলি কল করেছে । রক্তের দাগ শুকায় নাই ।

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপিত

আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি যে ওই শহীদের রক্তের উপর পা দিয়ে কিছুতেই মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারে না । অ্যাসেম্বলি কল করেছে । আমি , আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না । আমরা এ দেশের মানুষের অধিকার চাই । আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট - কাচারি , আদালত - ফৌজদারি , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে । গরিবের যাতে কষ্ট না হয় , যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে , সে জন্য সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে , সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না । রিকশা , গরুর গাড়ি চলবে , রেল চলবে , লঞ্চ চলবে ; শুধু সেক্রেটারিযেট , সুপ্রিম কোর্ট , হাইকোর্ট , জজকোর্ট , সেমি গভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো , ওয়াপদা কোনো কিছু চলবে না । আর যদি একটা গুলি চলে , আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয় , তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল , প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল । তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে , এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু , আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি , তোমরা বন্ধ করে দেবে । আমরা ভাতে মারব , আমরা পানিতে মারব ।

তোমরা আমার ভাই , তোমরা ব্যারাকে থাকো , কেউ তোমাদের কিছু বলবে না । কিন্তু আর আমার বুকের উপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না । সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না । আমরা যখন মরতে শিখেছি , তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না । প্রত্যেক গ্রামে , প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিযে প্রস্তুত থাকো । মনে রাখবা , রক্ত যখন দিয়েছি , রক্ত আরো দেব । এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ্ । এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম । ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংক্ষেপিত 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url