চিত্রনায়াক রিয়াজের শ্বশুর কেন আত্নহত্যা করলেন_জেনে নিন আসল ঘটনা ।

চিত্রনায়াক রিয়াজের শ্বশুর কেন আত্নহত্যা করলেন_জেনে নিন আসল ঘটনা ।

প্রতিনিধিঃ মো: রিজভী আহমেদ (Md Rijvi Ahamed)

একজন মানুষের একা থাকা যে কি কষ্টকর সেটাটা আমরা মহসিনকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না ।(ধানমন্ডির) সাত নম্বর রোডের পচিঁশ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন চিত্র নায়ক রিয়াজের শ্বশুর আবু মহসিন খান । তিনি মারা যাবার আগে থেকে তিনি তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভের মাধ্যমে কথা বলছিলো । মারা যাবার আগে তিনি ফেসবুক লাইভে কিছু কথা বলেন ।

কথাগুলো ছিলো এরকম মহসিনের ভাষায় লিখলাম, আমি মহসিন । ঢাকায় থাকি, আমার বয়স ৫৮ বছর প্রায় । কোনো এক সময়ে আমি ভালো নামকরা একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। বর্তমানে আমি ক্যানসার রোগে আক্রান্ত। তাই বর্তমানে আমার ব্যবসা কিংবা কোনো কিছুই নেই । ফেসবুকে ভিডিও লাইভে আসার মুল উদ্দেশ্য হলো মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আমারযে এক্সপেরিয়েন্স সেটা শেয়ার করলে হয় তো সবাই জানতে পারবে, সবাই সাবধানতা অবলম্বন করবে অবশ্যই।

‘৩০ জানুয়ারি আমার খালা মারা গিয়েছিলেন। খালার একমাত্র ছেলে আমেরিকায় থাকেন। মায়ের মৃত্যুতে সে দেশে আসেননি । আজ (বুধবার) আরেক খালা মারা গেল। তার চারজন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার,আরেক ছেলে আমেরিকায় থাকেন। এক ছেলে আসতে পারেনি তবে বাকি ৩ ছেলে দাফনের কাজ করেছেন। ‘কিন্তু আমার একমাত্র ছেলে। সেও অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। আমি আমার বাসায় সম্পূর্ণ একা থাকি। আমার খালা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার ভেতরে খুব ভয় কাজ করছে। আমি যদি আমার বাসায় মরে পড়ে থাকি আমার মনে হয় না এক সপ্তাহেও কেউ জানতে পারবে যে আমি মারা গেছি । আমরা সবকিছুই করি ছেলে-মেয়ে স্ত্রী-পরিবারের জন্য।

গত করোনা শুরুর আগের থেকে আমি বাংলাদেশে আছি। একা থাকা যেকি কষ্টকর, যারা একা থাকেন তারাই শুধু এই কষ্ট বুঝবেন । আমার জীবনে আমি যাদের জন্য বেশিকিছু করেছি, তাদের দ্বারাই বেশি প্রতারিত হয়েছিলাম আমি। আমার একজন বন্ধু ছিল যারনাম কামরুজ্জামান বাবুল, তাকে আমি না খেয়ে তাকে খাইয়েছি সহযোগিতা করেছি। সে আমার প্রায় ২৩-২৫ লাখ টাকা মেরে দিয়েছে। এভাবে আমি সব মিলে মানুষের কাছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পাই এখনো। সবশেষে আমি নোবেল নামে একজনকে আমার মিনারেল ওয়াটার প্রজেক্টের মেশিন আনার জন্য ৭ লাখ টাকার বেশি দেই।

সে আড়াই বছরে মেশিন আনেনি। পরে ঝগড়াঝাঁটি করার পর ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। মানুষ কেন এতো লোভী হয়। মানুষ অন্যের টাকা কেন ছলচাতুরী করে নিয়ে যায়। আমি তো কারো অপকার করিনি। পৃথিবীতে আপনি আপনার। ছেলে, মেয়ে, স্ত্রী কেউ আপনার না। আজ আপনি আপনার ফ্যামিলিকে যেভাবে মেইনটেইন করেন কাল সেভাবে না করলে পরিবারের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হবে। তারা কেন বুঝে না যে একজন যুবককালে যে আয় করে বয়স হলে তেমন পরিশ্রম করতে পারে না।

আয়ও কমে যায়। এসব বিষয় নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জীবনে প্রতারিত হতে হতে আমি শেষ। আমার বাবা পর্যন্ত আমাকে সম্পদ বুঝিয়ে দেয়নি। যতটুকু করেছি নিজের বলে করেছি। তবে কিছুদিন ধরে জীবনের প্রতি এতোটাই বিতৃষ্ণা এসে গেছে এখন আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে না। আমি জানি এই ঘরে যদি আত্মহত্যা করি, মরে পড়েও থাকি তাহলে কেউ জানবেও না। হয়তো অনেকদিন পর জানবে। আমার আত্মীয় যারা দেখছেন তাদের

বলতে চাই, আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। সন্তানদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, বাবারা না খেয়েও সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করে, ফ্যামিলিকে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্যামিলি অনেক সময় অনেক কিছু বুঝতে চায় না। কেন বুঝতে চায় না... নিজেকে আর মানায়া নিতে পারলাম না। যারা দেখছেন, এটাই হয়তো আপনার সাথে আমার শেষ দেখা। সবাই ভালো থাকবেন।

আমি যেটা দিয়ে সুইসাইড করার চেষ্টা করেছি, সেটা লাইসেন্স করা পিস্তল। আমি এই মুহূর্তে এখন চলে যাবো। আত্মীয়-স্বজন যারা আছো, আমাকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে যে কবরস্থান হয়েছে, আমাকে সেখানে দাফন করো। এটাই আমার জন্য ভালো হবে। কারণ প্রত্যেকটা লোক আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমার বাবা-মা, ভাইয়েরা। এই লাইন বলেই কালেমা পড়ে তিনি নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন। লাইভের ১৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মাথায় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মারা যাবার পরও লাইভ চলতেছিল। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে এই লাইভ চলতে থাকে।

তিনি এই কারনে আত্নহত্যা করেছিলেন সেটা হলো যে , তিনি ভেবেছিলেন আমি মারা যাবার পরে আমার খালার ছেলের মতো আমার ছেলেও হয়তো দেশে আসবেনা । সবমিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আত্নহত্যা করবেন ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে । যাতে করে আমার আত্নহত্যার খবর শুনে আমার ছেলে এবং আত্নিয় স্বজন আমাকে কবর দিতে পারে ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url